Skip to main content

Command Palette

Search for a command to run...

টাচ টাইপিং কী ও কেন?

Published
5 min read
R

I am from Dhaka, Bangladesh, working as a Software Engineer in a renowned software farm in Dhaka in the core Developement team.

কম্পিউটার সম্পর্কিত যত রকম দক্ষতা রয়েছে তার মধ্যে দ্রুত টাইপ করতে জানার দক্ষতা অন্যতম। শুধুমাত্র ডেস্কজব বা প্রোগ্রামিং ভিত্তিক চাকরিতে নয়, বরং দ্রুত টাইপ করতে জানলে যেকোনো ধরনের কাজেই আপনি পেতে পারেন বাড়তি সুবিধা। এখনকার রিক্রুটিং এজেন্সীগুলো থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রায় সব কোম্পানীই চাকরি প্রার্থীদের বাড়তি এই যোগ্যতার দিকে বিশেষ নজর দিয়ে থাকে। তাই, টাচ টাইপিং জানা থাকলে চাকরির দৌড়ে আর সবার থেকে আপনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন নিমিষেই। আসুন জেনে নিই টাচ টাইপিং সম্পর্কে।

টাচ টাইপিং কী ?

টাচ টাইপিং হচ্ছে দ্রুত টাইপ করার কার্যকর একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে দৃষ্টির বদলে পেশীর স্মৃতির ওপর নির্ভর করে হাতের সবগুলো আঙ্গুল ব্যবহার করা হয়, ফলে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েও খুব দ্রুত এবং বেশ নির্ভুল ভাবে টাইপ করা যায়। আজ থেকে একশ বছরেরও বেশি সময় আগে এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।

কেন করবেন টাচ টাইপিং ?

প্রথমত, সময় বাঁচানোর জন্য। ধরা যাক, আপনি দিনে অন্তত 'ছয়' থেকে 'আট' ঘন্টা কম্পিউটারে কাজ করেন। সেটা হতে পারে কোনো অফিস জব, প্রোগ্রামিং বা একান্তই ব্যক্তিগত কাজ বা লেখালেখি (এই ধরেন, ক্লাসের এসাইনমেন্ট, ইমেইল, চ্যাটিং, ফেসবুক স্ট্যাটাস, কমেন্ট করা, টুইট করা ইত্যাদি) এর মধ্যে অন্তত চার-পাঁচ ঘন্টা আপনি টাইপ করেন। এখন এমনিতে কি-বোর্ড দেখে দেখে যদি আপনি টাইপ করেন সেক্ষেত্রে আপনার গড় টাইপিং স্পিড হবে ৩০-৩৫ WPM (Word Per Minute). অথচ আপনি যদি টাচ টাইপিং জানেন তবে আপনার স্পিড হবে ৫০-৮০ WPM কিংবা তারও বেশি। এখন দ্রুত টাইপিং করতে জানলে আপনার পাঁচ ঘন্টার কাজ তিন ঘন্টা বা তারও কম সময়ে করে ফেলা সম্ভব। এখন বছরে যদি আপনি ৩০০ দিন কাজ করেন তাহলে টাচ টাইপিং না জানার কারণে প্রতিবছর আপনার ৬০০ ঘন্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। আর এভাবে চালিয়ে যেতে থাকলে আপনার ৪০ বছরের কর্মজীবনে ৪০ X ৬০০ = ২৪,০০০ ঘন্টা সময় নষ্ট হবে। যেই সময়টা আপনি অন্য কোনো সৃষ্টিশীল কাজে বা বিনোদনে লাগাতে পারেন অনায়াসেই।

দ্বিতীয়ত, মনোযোগ। কোনো কাজ করতে গিয়ে আপনার মনোযোগের বেশিরভাগই যদি চলে যায় টাইপিং করার দিকে, তাহলে কাজের ফলাফলে যথেষ্ট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সেটাই স্বাভাবিক।

তৃতীয়ত, টাচ টাইপিং এর সাথে স্বাস্থ্যগত একটা ব্যাপার জড়িত। টাচ টাইপিং করতে হলে আপনাকে কিবোর্ডের সাথে একটা নির্দিষ্ট পজিশনে হাত রাখতে হবে এবং এতে আপনার শরীরটাও চেয়ারের সাথে ফিট হয়ে থাকবে। যার ফলে Repetitive strain injury'র সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

টাচ টাইপিং কীভাবে শিখবেন?

সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিখবেন। মনোযোগ সহকারে ১০ থেকে ১৫ দিন অনুশীলন করলেই আপনার টাইপিং এর গতি যথেষ্ট বেড়ে যাবে। এজন্য ডেস্কটপ ভিত্তিক কিংবা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, যেকোনো ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমেই আপনার টাইপ স্পীড মেপে নিন। অনলাইনে টাইপ স্পীড মাপার জন্য এক মিনিটের এই পরীক্ষাটি দিতে পারেন। এরপর,

১. কি-বোর্ডের লে-আউট মুখস্থ করে নিন:
দ্রুত টাইপ করার প্রথম শর্ত কিবোর্ডের কোথায় কোন ‘কি’ আছে তা জানা। তাই প্রথম দিকে বেশ কিছুটা সময় হাতে রাখুন কি বোর্ডের লে-আউট মুখস্থ করার জন্য।

২. বসার সঠিক ভঙ্গি এবং আঙ্গুলের অবস্থা জেনে নিন:
কম্পিউটারে টাইপ করতে বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন, এবং দুহাত রাখুন কি বোর্ডের উপর। এতে টাইপ করতে সুবিধা হবে। বাঁ হাতের তর্জনীতে রাখুন ‘এফ’ কি, মধ্যমাতে ‘ডি’, অনামিকাতে ‘এস’, কড়ে আঙুলে ‘এ’। ডান হাতের তর্জনী রাখুন ‘জে’, মধ্যমাতে ‘কে’, অনামিকাতে ‘এল’ ও কড়ে আঙুল রাখুন ‘সেমিকোলন’ কিতে। বাঁ ও ডান হাতের বৃদ্ধ আঙুল রাখুন স্পেস বারে। এভাবে উপরের ও নিচের সারি মিলিয়ে নিন।

নিচের ছবিদুটো এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে।

QWERTY-home-keys-position.svg_একটি আঙ্গুল একসেট কি এর জন্য নির্দিষ্ট রাখুন

Computer Workstationসঠিক নিয়মে বসুন

৩. অনুশীলন শুরু:
আঙুল ঠিকমতো রাখার পর আস্তে আস্তে বিভিন্ন শব্দ টাইপ করতে শুরু করুন। শুরুতে যে কিগুলোতে আঙুল রেখেছেন, তা চেপে টাইপ শুরু করুন। ‘এএসডিএফ’ এরপর স্পেস দিয়ে ‘জেকেএল; ’ এরপর বড় হাতের অক্ষরে এ অক্ষরগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এরপর নিচের সারির কিগুলোতে আঙুল রেখে এই কিগুলো টাইপ করুন। একই সঙ্গে ওপরের সারিতে আঙুল রেখে ওই কিগুলো টাইপ করার চেষ্টা করুন। এবার কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েই কি গুলো চেপে টাইপ করার চেষ্টা করতে পারেন।

৪. শুরু করুন ধীরে ধীরে:
আপনার টাইপিং স্পিড দ্রুত বা একদিনেই খুব বেড়ে যাবে না, এর পেছনে যথেষ্ট সময় এবং শ্রম দিতে হবে। তাই, দ্রুত টাইপ করার ইচ্ছা প্রথম দিন থেকেই পরিত্যাগ করুন। আর অনুশীলনের সময় ছাড়া বাকি সময়েও আঙ্গুলের পজিশন গুলো ঠিক রাখার চেষ্টা করুন।

৫. সফটওয়্যার এর সাহায্য নিন:
টাইপিং শেখার জন্য বর্তমানে প্রচুর সফটওয়্যার রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি বাড়িয়ে তুলতে পারবেন আপনার স্পিড। এ সব সফটওয়্যার বিভিন্ন গেমস (typing games) এর মাধ্যমে দ্রুত টাইপিং শিখতে সাহায্য করে। তবে শুধু মাত্র সফটওয়্যারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে দ্রুত টাইপ শেখা যাবে না। তাই এর পাশাপাশি খবরের কাগজ বা বই থেকে দেখে টাইপের অভ্যাস করতে হবে।

৬. প্রতিদিন অনুশীলন করুন:
দ্রুত টাইপিং শেখার জন্য প্রতিদিন অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। সফটওয়্যার ও খবরের কাগজ বা বই থেকে দেখে টাইপ করা ছাড়াও বিভিন্ন অডিও বুক বা ভিডিও ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এরপর অডিও বা ভিডিওতে যা শুনছেন তা সাথে সাথে টাইপ করার চেষ্টা করুন।

অনলাইনে অনুশীলনের জন্য যেতে পারেন এই সাইটে।

এছাড়া নিয়মিত ব্যবহারের জন্য Typing master Pro সফটওয়্যারটি ইন্সটল করে নিতে পারেন। এছাড়া গুগলে সার্চ করলে আরও অনেক ফ্রি সফটওয়্যার পাওয়া যাবে।

আর একটা কথা, একদিনেই খুব বেশি অনুশীলন না করে প্রতিদিন একটু একটু করে চালিয়ে যান।
সঠিকভাবে উপরের টিপসগুলো মেনে চললে আশাকরি খুব দ্রুতই আপনি টাচ টাইপিং এর মাস্টার বনে যাবে।আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

যেকোনো মতামত বা পরামর্শের জন্য মেইল করতে পারেন m.rubayet94@gmail.com এই ঠিকানায়।